১৯৩৯ — ১৯৮৩

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

Manabendra Narayan Larma

“আমি বাঙালি নই, আমি চাকমা”

Manabendra Narayan Larma (1939 – 10 November 1983) was a visionary leader, political activist, and the founding president of the Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti (PCJSS). He dedicated his life to fighting for the rights and recognition of the indigenous peoples of the Chittagong Hill Tracts.

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
জন্ম

১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯

মহাপুরুম, নানিয়ারচর, রাঙামাটি

PCJSS গঠন

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

এমপি নির্বাচিত

১৯৭৩

চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টস-১ আসন

শহীদ

১০ নভেম্বর ১৯৮৩

খেদারাছড়া, পঞ্চারী, খাগড়াছড়ি

শৈশব জীবন

১৯৩৯—১৯৫৫

১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার মহাপুরুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। পিতা চিত্ত কিশোর চাকমা ও মাতা সুলতানমিনি দেওয়ান এর সন্তান হিসাবে। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

ডাকনাম: মনজু

তাঁর শৈশব কেটেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে। তাঁর গ্রাম পরে কাপ্তাই বাঁধের পানিতে তলিয়ে যায়, যা তাঁর রাজনৈতিক চেতনার উন্নয়নে গভীর প্রভাব ফেলে।

শিক্ষাজীবন

১৯৪৫—১৯৬৯

প্রাথমিক শিক্ষা

মহাপুরুম জুনিয়র হাই স্কুলে শুরু হয়।

১৯৫৮

রাঙামাটি গভার্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ।

১৯৬০

চট্টগ্রাম গভার্নমেন্ট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট।

১৯৬৫

একই কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন।

১৯৬৮

কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে B.ED।

১৯৬৯

চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে LLB সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বার অ্যাসোসিয়েশনে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন।

কর্মজীবন

১৯৬৬–১৯৬৯

১৯৬৬

দিঘীনালা হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

১৯৬৮

চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনি হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।

১৯৬৯

আইন পেশায় প্রবেশ করেন এবং সামাজিক আন্দোলনে আরও বেশি সম্পৃক্ত হন।

রাজনৈতিক জীবন

প্রারম্ভিক রাজনীতি (১৯৬০-১৯৭০)

১৯৫৬

ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ।

১৯৫৭

প্রথম জুম্ম ছাত্র সম্মেলনের অন্যতম সংগঠক।

১৯৫৮

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

১৯৬০

জুম্ম ছাত্র সমাজে নেতৃত্ব শুরু করেন।

১৯৬২

জুম্ম ছাত্র সম্মেলনের প্রধান সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দেন।

১৯৬৩

কাপ্তাই বাঁধবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হন (১০ ফেব্রুয়ারি)।

১৯৬৫

মুক্তি পান (৮ মার্চ)।

১৯৬৯

গঠন করেন “CHT Election Organizing Committee”।

নির্বাচিত নেতা ও জাতীয় রাজনীতি (১৯৭০-১৯৭৪)

১৯৭০

পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (MPA) নির্বাচিত হন।

১৯৭১

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।

১৯৭২
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি: গঠন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS)।

  • শেখ মুজিবুরকে ৪-দফা দাবিপত্র দেন।

  • ৩১ অক্টোবর: সংবিধানে “বাঙালি” পরিচয়ের বিরুদ্ধে গনপরিষদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

১৯৭৩

চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টস-১ আসনে এমপি নির্বাচিত হন।

১৯৭৪
  • শেখ মুজিবের আহ্বানে বাকশালে যোগ দেন।

প্রতিরোধ ও আত্মগোপন (১৯৭৫–১৯৮৩)

১৬ আগস্ট ১৯৭৫

সামরিক শাসনের পর আত্মগোপনে যান।

১৯৭৫

PCJSS-এর সভাপতি হন; গঠন করেন মহিলা সমিতি।

১৯৭৭

দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮২

তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনেও পুনঃনির্বাচিত।

এই সময়ে শান্তি বাহিনী গঠন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়।

“আমি বাঙালি নই, আমি চাকমা”

এই উচ্চারণ শুধু আত্মপরিচয়ের ঘোষণা নয়, এটি ছিল বাংলাদেশের ভেতর এক উপেক্ষিত জাতিসত্তার ন্যায্য অবস্থানের দাবিতে গর্জে ওঠা এক অনমনীয় কণ্ঠস্বর।

“You cannot impose your national identity on us. I am not Bengali, I am Chakma.”

— মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

পারিবারিক জীবন

বিবাহ: ১৯৭১ সালে পক্ষজিনী চাকমাকে বিয়ে করেন।

সন্তান

  • ছেলে: জয়েস লারমা (বড়)

  • মেয়ে: পরমিতা লারমা (ছোট)

ভাই-বোন

  • জ্যোতিপ্রভা লারমা (বড় বোন)

  • সুবেদু প্রবাস লারমা (বড় ভাই)

  • জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) – পরবর্তীতে PCJSS প্রধান হন।

শহীদত্ব

১০ নভেম্বর ১৯৮৩

খাগড়াছড়ির পঞ্চারী উপজেলার খেদারাছড়া ঝর্ণার উৎসে বিশ্বাসঘাতক হামলায় বিদ্রোহী PCJSS গ্রুপের হাতে শহীদ হন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক সংগ্রামী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তাঁর আদর্শ থেকে যায় প্রজন্মের জন্য।

M.N. Larma was assassinated under mysterious political circumstances. His death marked a tragic turning point in the struggle for indigenous autonomy and cultural preservation.